এইটাকে আমরা বলি মোশন সিকনেস। পাহাড়ি পাকদণ্ডিতে গোলগোল ঘোরার ফলে মারাত্মক লেভেলের হয়, যাদের সেরকম পর্যায়ের আছে তেমন লোকেদের এমনি বাসে চড়লেও বমি পায় (এমন লোক নিশ্চয়ই আশেপাশে দেখে থাকবেন)। যে টোটকাগুলো বলেছেন ওইগুলো হচ্ছে হাড় ভাঙার উপরে হাত বুলিয়ে ব্যথা কমানোর মত, কোনো লাভ হবে না। এই অসুখে কানের ভিতরের ভারসাম্য রক্ষাকারী vestibule এ সমস্যা হয় এবং সেখান থেকে ভোমিটিং সেন্টার সক্রিয় হয়ে থাকে। গণ্ডগোলটা হয় চোখে আমরা যা দেখি বা যেধরণের movement দেখি, ত্রুটিপূর্ণ ভেস্টিবিউল তার চেয়ে অন্য ধরনের movement আন্দাজ করে এবং একটা sync mismatch তৈরি হয় যা সেরেবেলাম কে খুঁচিয়ে বমি করানোর জন্য দায়ী কেমরিসেপ্টর ট্রিগার জোনকে জাগিয়ে তোলে।
যাকগে এসব কচকচানি ছাড়ুন। কাজের কথায় আসি।
উপায় :
একবার বমি পেতে শুরু করলে তখন গলা টিপে দিয়েও সুবিধে করতে পারবেন না। গোড়ায় উৎপাটন করতে হবে সমস্যা। জার্নি শুরুর বা গাড়ি ওঠার আগে অন্তত আধঘন্টা থেকে একঘন্টা আগে promethazine জাতীয় ওষুধ খেয়ে নিতে হবে। Avomin নামে পাওয়া যায়, এটা ওভার দ্যা কাউন্টার ড্রাগ, প্রেসক্রিপশন লাগবে না
এক এক করে বলি?
1. খোলা গাড়িতে বা বাইকে সমস্যা সত্যিই হয় না এবং এর যথাযথ কারণ আছে। Sensory mismatch এর ঘটনাটা খোলা পরিবেশে করা মুশকিল। আপনার চোখ যা দেখেছে, কান তাই শুনেছে, চোখে মুখে হাওয়া লাগছে ঝাপটা দিয়ে, শরীর নড়ছে একটা খোলা সিটে, ফলে movement বিষয়ক কোনো dilemma মস্তিষ্কে তৈরি হতে পারে না। অথচ বদ্ধ গাড়িতে ভাবুন, ঝাঁকুনি হচ্ছে, গোল গোল পাহাড়ি বাঁকে ঘুরছেন ফলে আপনার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী বেস্টিবিউল ব্রেইনকে বলছে, ভাই আমরা মনে হয় নাগরদোলায় চেপেছি। এদিকে আপনার শরীর স্পর্শ দিয়ে বুঝছে সে গাড়ির বাক্সের ভিতর আপাতভাবে স্থির বসে আছে, চোখ ও ভিতরের দিকে তাকালে দেখছে একটা বদ্ধ জায়গায় চুপচাপ বসে আছি, কই এগোচ্ছি না নড়ছি না, আবার খোলা হাওয়াও ঐভাবে লাগছে না, এর ফলে perception mismatch হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। যে কারণে বলা হয় যে চোখ বন্ধ রাখলে বা দূরের দিগন্তের দিকে দেখলে খানিক কম হয় সমস্যাটা।
2. হ্যাঁ, this is very much adaptable
এটাকে নিউরো অ্যাডাপটেশন এবং সেন্সরি হ্যবিচুয়েশন বা রিক্যালিব্রেশনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মস্তিষ্ক যথেষ্ট সেয়ানা, সে সময়ের সাথে বুঝতে শেখে ঠিক কোন জায়গায় এসে তাকে বোকা বানানো হচ্ছে, সেইমত সেন্সরি ইম্পালস অ্যাডজাস্ট করে নেয় সে। তবে এই অ্যাডাপট করার ক্ষমতা মানুষ ভেদে আলাদা আলাদা হয়। জেনেটিক্স, anxiety ইত্যাদি ফ্যাক্টর প্রভাব ফেলে।